আব্দুল জলিল
কেশবপুর (যশোর) প্রতিনিধি
ডেঙ্গু, চিকুনগুনিয়াসহ মশাবাহিত বিভিন্ন রোগের বিস্তার রোধে জনসচেতনতা সৃষ্টি, পরিচ্ছন্ন পরিবেশ নিশ্চিতকরণ এবং মশার প্রজননস্থল ধ্বংসের লক্ষ্যে যশোরের কেশবপুর পৌরসভার উদ্যোগে জনসচেতনতামূলক কর্মসূচি ও পরিচ্ছন্নতা অভিযান অনুষ্ঠিত হয়েছে।
শনিবার (১০ অক্টোবর) সকাল ৯টায় আয়োজিত এ কর্মসূচিতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে অংশগ্রহণ করেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির অন্যতম সদস্য ও কেশবপুর উপজেলা বিএনপির সভাপতি, কেশবপুরের গণমানুষের নেতা আবুল হোসেন আজাদ। এ সময় তিনি ডেঙ্গু প্রতিরোধে জনসাধারণকে সচেতন করা এবং নিজ নিজ বাসাবাড়ি ও আশপাশের পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন কেশবপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোঃ আনোয়ার হোসেন এবং কেশবপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. রেহনেওয়াজ। এছাড়া উপস্থিত ছিলেন পৌর বিএনপির সভাপতি আলহাজ্ব আব্দুস ছামাদ বিশ্বাস, উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক প্রভাষক মোঃ আব্দুর রাজ্জাক, পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শেখ শহিদুল ইসলাম শহিদ, সাংগঠনিক সম্পাদক মোঃ আলমগীর হোসেন বিশ্বাস, পৌর জামায়াতের আমির প্রভাষক মোঃ জাকির হোসেন, ছাত্রদলের আহ্বায়ক মোঃ আজিজুর রহমানসহ উপজেলা ও পৌর বিএনপির নেতৃবৃন্দ, উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তাবৃন্দ এবং স্থানীয় সাংবাদিকরা।
কর্মসূচিতে প্রধান অতিথি আবুল হোসেন আজাদ বলেন, ডেঙ্গু ও অন্যান্য মশাবাহিত রোগ প্রতিরোধে শুধু প্রশাসনিক উদ্যোগ যথেষ্ট নয়, এর পাশাপাশি প্রতিটি নাগরিককে সচেতন ও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। বাড়ির আঙিনা, ছাদ, বারান্দা, পরিত্যক্ত পাত্র এবং আশপাশের যেসব স্থানে পানি জমে থাকে, সেগুলো নিয়মিত পরিষ্কার রাখতে হবে। মশার প্রজননস্থল ধ্বংসে সামাজিকভাবে সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে।
তিনি বলেন, জনস্বাস্থ্য সুরক্ষা ও পরিচ্ছন্ন কেশবপুর গড়ে তুলতে পৌরসভার এ ধরনের উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ। ডেঙ্গু প্রতিরোধে দলমত-নির্বিশেষে সবাইকে একযোগে কাজ করতে হবে এবং জনসচেতনতামূলক কার্যক্রমকে সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে হবে।
কেশবপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ আনোয়ার হোসেন বলেন, ডেঙ্গু প্রতিরোধে পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা এবং মশার বংশবিস্তার রোধ করা অত্যন্ত জরুরি। এ ক্ষেত্রে সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি নাগরিকদের সক্রিয় অংশগ্রহণ প্রয়োজন। বাড়িঘর ও আশপাশে কোথাও পানি জমে থাকতে না দেওয়া এবং নিয়মিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিত করার মাধ্যমে ডেঙ্গুর ঝুঁকি কমানো সম্ভব। তিনি ডেঙ্গু প্রতিরোধে সচেতনতামূলক কার্যক্রম জোরদার করার পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান।
কেশবপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. রেহনেওয়াজ বলেন, ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়ার মতো মশাবাহিত রোগ প্রতিরোধে ব্যক্তিগত সচেতনতা, পরিচ্ছন্নতা এবং সময়মতো প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এডিস মশা সাধারণত জমে থাকা পরিষ্কার পানিতে বংশবিস্তার করে। তাই ফুলের টবের নিচের পাত্র, অব্যবহৃত টায়ার, ডাবের খোসা, পানির পাত্র, ছাদ ও বাড়ির আশপাশে জমে থাকা পানি নিয়মিত অপসারণ করতে হবে।
তিনি আরও বলেন, জ্বর, মাথাব্যথা, শরীরব্যথা বা ডেঙ্গুর অন্যান্য উপসর্গ দেখা দিলে অবহেলা না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে। বিশেষ করে তীব্র পেটব্যথা, বারবার বমি, রক্তপাত, অস্বাভাবিক দুর্বলতা কিংবা শ্বাসকষ্টের মতো বিপৎসংকেত দেখা দিলে দ্রুত হাসপাতালে যেতে হবে। ডেঙ্গু প্রতিরোধে সবাইকে সচেতন হওয়ার পাশাপাশি রোগের লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসাসেবা গ্রহণ করতে হবে।
পৌরসভার নির্বাহী কর্মকর্তা আবুল ফজল মোঃ ইনামুল হক বলেন, পরিচ্ছন্ন কেশবপুর গড়তে নাগরিকদের আহ্বান কেশবপুর পৌরসভার উদ্যোগে আয়োজিত এ কর্মসূচির মূল লক্ষ্য ছিল মশাবাহিত রোগ সম্পর্কে জনসাধারণকে সচেতন করা, পরিচ্ছন্নতার গুরুত্ব তুলে ধরা এবং ডেঙ্গু প্রতিরোধে সম্মিলিত সামাজিক উদ্যোগকে উৎসাহিত করা।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ডেঙ্গু প্রতিরোধে মশার প্রজননস্থল ধ্বংস, জমে থাকা পানি অপসারণ, পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখা এবং রোগের লক্ষণ সম্পর্কে সচেতনতা বাড়ানোর বিকল্প নেই। তাই পরিচ্ছন্নতা অভিযানকে নিয়মিত কার্যক্রমে পরিণত করা এবং নাগরিকদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা জরুরি।
কেশবপুরকে ডেঙ্গুমুক্ত ও পরিচ্ছন্ন জনপদ হিসেবে গড়ে তুলতে পৌরসভা, উপজেলা প্রশাসন, স্বাস্থ্য বিভাগ, জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ এবং সাধারণ নাগরিকদের সম্মিলিত প্রচেষ্টা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।