মো: শিহাব উদ্দিন শেখ, বিশেষ প্রতিনিধি:
ঢাকার আশুলিয়ায় লিফট দেওয়ার কথা বলে মোটরবাইক চালককে ফাঁদে ফেলে অপহরণ, মারধর ও মুক্তিপণ আদায়ের অভিযোগে হানিট্র্যাপ চক্রের তিন সক্রিয় সদস্যকে গ্রেফতার করেছে আশুলিয়া থানা পুলিশ।
গ্রেফতারকৃতরা হলো খন্দকার মেহেদী হাসান (২৪), মোছাঃ সাবিনা ইসলাম (২০) এবং মোঃ শামীম মিয়া (১৬)।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত ১৬ অক্টোবর সন্ধ্যায় মোঃ পারভেজ বিশ্বাস (৩৪) নামের এক ব্যক্তি সাভারের নিজ বাসস্থান থেকে মোটরসাইকেল নিয়ে আশুলিয়ার পল্লীবিদ্যুৎ এলাকায় ঘুরতে যান। সেখান থেকে ফেরার পথে পল্লীবিদ্যুৎ ওভারব্রিজের নিচে এক অজ্ঞাতনামা নারী তাঁর কাছে লিফট চান। পারভেজ বিশ্বাস সরল বিশ্বাসে ওই নারীকে মোটরসাইকেলে তুলে নেন।
পরবর্তীতে পল্লীবিদ্যুৎ আল নূর মসজিদের সামনে পৌঁছালে পূর্বপরিকল্পিতভাবে ৫-৬ জন ব্যক্তি মোটরসাইকেলের গতিরোধ করে। তারা পারভেজকে এলোপাতাড়ি মারধর করে জোরপূর্বক একটি বাঁশবাগানে নিয়ে যায় এবং হাত-পা বেঁধে ধারালো অস্ত্রের মুখে ৫ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে।
ভুক্তভোগীর কাছে তাৎক্ষণিক টাকা না থাকায় আসামিরা তাঁর পরিবারের কাছে মোবাইল ফোনে কল করে মুক্তিপণ চায়। বাধ্য হয়ে স্বজনেরা নগদের মাধ্যমে ২০ হাজার টাকা পাঠান। আসামিরা ওই টাকা এবং ভুক্তভোগীর নগদ অ্যাকাউন্টে থাকা ৪,৭০০ টাকাসহ মোট ২৪,৭০০ টাকা উত্তোলন করে নেয়। এছাড়া তাঁর ব্যবহৃত ২টি মোবাইল ফোন ও একটি ব্লুটুথ হেডফোন ছিনিয়ে নিয়ে তাঁকে নির্জন স্থানে ফেলে রেখে পালিয়ে যায়।
এ ঘটনায় ভুক্তভোগী পারভেজ বিশ্বাস বাদী হয়ে আশুলিয়া থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগের ভিত্তিতে ২১ অক্টোবর মামলা (মামলা নং- ৯৯, ধারা- ৩৬৫/৩২০/৩৮৫/৩৮৬/৫০৬/৩৪ পেনাল কোড) রজু করা হয়।
ঢাকা জেলার পুলিশ সুপার জনাব শামীমা পারভীনের তত্ত্বাবধান ও দিক-নির্দেশনায় আশুলিয়া থানার একটি চৌকস টিম তথ্য-প্রযুক্তির সহায়তায় ২১ অক্টোবর ভোর আনুমানিক ৫:৩০ ঘটিকায় এনায়েতপুর এলাকার একটি বাসায় অভিযান চালায়। সেখান থেকে ঘটনার সাথে জড়িত উক্ত ৩ আসামিকে গ্রেফতার করা হয়।
গ্রেফতারকৃত আসামিদের বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। ঘটনার সাথে জড়িত অন্যান্য আসামিদের গ্রেফতার এবং ছিনতাই হওয়া মালামাল ও অর্থ উদ্ধারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।